শিশু সায়মাকে ধর্ষণ ও হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা

0
159
বামে অভিযুক্ত হারুন অর রশিদ ও ডানে শিশু সায়মা।

নিউজ ডেস্ক: হারুন অর রশিদকে গ্রেফতারের পর রাজধানীর ওয়ারীতে ৭ বছরের শিশু সামিয়া আফরিন সায়মাকে ধর্ষণ ও হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা উঠে এসেছে। ধর্ষণের কথা স্বীকার করে সে জানায়, সায়মাকে ছাদ ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলে লিফট থেকে ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে নবনির্মিত নবম তলার ফ্ল্যাটে সায়মাকে ধর্ষণ করে সে। এরপর নিস্তেজ হয়ে পড়লে মৃত ভেবে সায়মার গলায় রশি বেঁধে টেনে রান্নাঘরের সিঙ্কের নিচে রেখে হারুন পালিয়ে যায়।

হারুনের জবানবন্দির বরাত দিয়ে রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সায়মাকে ধর্ষণ ও হত্যার এমন রোমহর্ষক বর্ণনা দেন অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন।

এর আগে, রোববার সকালে হারুন অর রশিদকে কুমিল্লার ডাবরডাঙ্গা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার সদস্যরা।

শিশু সায়মাকে যেভাবে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে তা অত্যন্ত কুরুচির পরিচায়ক এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে মন্তব্য করেন অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অপরাধীরা সাধারণত ধর্ষণের পর যখন ভাবে এ অপকর্মের কারণে সে বাঁচতে পারবে না তখনই হত্যার মতো ঘটনা ঘটায়। এক্ষেত্রেও তাই ঘটিয়েছে ঘাতক হারুন।’

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে আব্দুল বাতেন বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন মাকে বলে শিশু সায়মা আট তলায় যায়। সেখানে ফ্ল্যাট মালিক পারভেজের একটি বাচ্চা আছে তার সঙ্গে খেলা করতে। সেখানে গেলে পারভেজের স্ত্রী জানায় তার মেয়ে ঘুমাচ্ছে। সেখান থেকে বাসায় ফেরার উদ্দেশে লিফটে ওঠে সায়মা। লিফটেই সায়মার সঙ্গে দেখা হয় পারভেজের খালাতো ভাই হারুনের। হারুন সায়মাকে লিফট থেকে ছাদ দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে ছাদে নিয়ে যায়।

ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, সেখানে অত্যন্ত পাশবিকভাবে সায়মাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। কিন্তু এ সময় সায়মা চিৎকার শুরু করে। তখন হারুন মুখ চেপে সায়মাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর সায়মাকে নিস্তেজ দেখে গলায় রশি বেঁধে টেনে রান্নাঘরে নিয়ে যায় সে। সেখানে সিঙ্কের নিচে রাখে। এরপর পারভেজের বাসায় না ফিরে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার তিতাস থানার ডাবরডাঙ্গা এলাকায় পালিয়ে যায় হারুন।’

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার মাগরিবের নামাজের সময় সামিয়া বাসা থেকে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত সাড়ে ৮টায় একই বাড়ির ৮ তলার একটি খালি ফ্ল্যাটে সামিয়ার লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। শনিবার ময়নাতদন্তের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, “মেয়েটিতে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here