কোনো উদ্যোগেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না পেঁয়াজের দাম

0
152

আইকন নিউজ ডেস্ক: কোনো উদ্যোগেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না পেঁয়াজের দাম। চীন, মিয়ানমার, মিসর ও তুরস্ক থেকে মাঝে-মধ্যেই আসছে পেঁয়াজ। সরকারি উদ্যোগে বিপণন সংস্থা টিসিবির মাধ্যমে সরকার ৪৫ টাকা দরে ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি জেলায় বিক্রি করা হচ্ছে পেঁয়াজ। এতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। বাজারে নতুন দেশি পেঁয়াজও উঠেছে অল্প-বিস্তর। তারও কোনো প্রভাব নেই।

বৃহস্পতিবারও ৪ হাজার ১৫৯ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে ওই চার দেশ থেকে। রোববার আরও প্রায় ৫ হাজার টন পেঁয়াজ দেশে আসার কথা। পেঁয়াজ তো আসছেই তাহলে দাম কমছে না কেন।

এ প্রশ্ন রাখতেই ব্যবসায়ীরা জানালেন, আমদানিকৃত যেসব পেঁয়াজ আসছে তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। মূল সমস্যা হচ্ছে চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের যোগান এখনও অনেক কম।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয় ৫ ডিসেম্বর দেশে ৪১৫৯ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে টেকনাফ হয়ে দেশে এসেছে ১২২৭ টন এবং চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর হয়ে এসেছে ২৯৩২ টন পেঁয়াজ। এর মধ্যে মিয়ানমার থেকে ১২২৭ টন, চীন থেকে ৩৮৪ টন, মিসর থেকে ৮৪ টন এবং তুরস্ক থেকে ২৫০০ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। বিভিন্ন আমদানিকারক এসব পেঁয়াজ আমদানি করছে। দেশে পেঁয়াজের সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন এ পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত থাকবে।

গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে পেঁয়াজের বাজার অস্থিরতা বিরাজ করছে। সঙ্কটের অজুহাত দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা ঢাকার বাইরে এর দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠিয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

সরকারের তদারকির ফলে এর দাম কিছুটা কমলেও এখন আবার বাড়তে শুরু করেছে। পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ইতোমধ্যে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। পাকিস্তান থেকে বিমানে করে পেঁয়াজ আমদানি করেছে। মিসর, তুরস্ক ও মায়ানমার থেকেও আমদানি করা হয়েছে পণ্যটি। এ ছাড়া মাঠ প্রশাসনসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি বিপণন অধিদফতর, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বাজার তদারকিতে নেমেছে। তারপরও দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

গত ২৪ নভেম্বর এফবিসিসিআইর গোলটেবিল বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছিলেন, পেঁয়াজের দাম সাধারণ ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসতে আরও ১০ দিন লাগবে। এর কারণ ব্যাখ্যায় বাণিজ্যমন্ত্রী তখন বলেন, জাহাজে আমদানি করা পেঁয়াজ আগামী ১০ দিনের মধ্যে বাজারে আসবে। কিন্তু সে ১০ দিন পার হয়ে ১৫ দিনে গড়ালেও কমেনি পেঁয়াজের দাম উল্টো আরও বেড়েছে। অন্যদিকে মিয়ানমার থেকে আনা পেঁয়াজ চট্টগ্রাম পর্যন্ত আমদানি খরচ কেজিপ্রতি ৩২ টাকা পড়ছে। কিন্তু খুচরা বাজারে এটি সর্বোচ্চ ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকায়।

অন্যদিকে বাজারে দ্রুত সরবরাহ বাড়াতে আকাশপথে যেমন পেঁয়াজ আসছে, তেমনি আসছে সমুদ্রপথেও। এ পর্যন্ত পাকিস্তান থেকে ৮১ টন ৫০০ কেজির প্রথম চালান দেশে পৌঁছেছে। এরপর পর্যায়ক্রমে মিসর ও তুরস্ক থেকে এস আলম গ্রুপ আরও ১৬০ টন পেঁয়াজ দেশে আনে। মেঘনা গ্রুপের ১১ টন ৪৫৩ কেজি পেঁয়াজ দেশে আসে। এ ছাড়া পাইলাইনে আরও আছে। মায়ানমার থেকেও পেঁয়াজ আসছে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েও আমদানি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, দেশে এক মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার টন পেঁয়াজ এসেছে। এসব পেঁয়াজ মিসর, চীন ও মিয়ানমার থেকে আনা হয়েছে। পাইপলাইনে আছে আরও ৬৫ হাজার ৯৩০ টন পেঁয়াজ।

ক্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাজার অস্থির হওয়ার দায়ভার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। সঠিক সময় আমদানির উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। সংস্থাটির সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পেঁয়াজ সঙ্কট এ পর্যায়ে চলে আসছে। সরবরাহ ঠিক রাখতে কোনো ধরনের পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান তাদের কাছে ছিল না। এ ছাড়া পেঁয়াজ নিয়ে দেশে সমস্যা তৈরি হলেও তা সমাধানে যথাসময়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নয়াবাজার ও রামপুরা কাঁচাবাজারে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৪০-২৫০ টাকায়। মিসর ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০০-২২০ টাকায়। এ দিন রাজধানীতে পেঁয়াজের পাইকারি আড়ত শ্যামবাজার ও কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ পাইকারিতে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতা আহাদ হোসেন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বিমানে আসার পরও পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। এত পেঁয়াজ যাচ্ছে কোথায়। তারা বলেন, ১০ দিনের মধ্যে দাম কমবে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পরই সুযোগ নিয়েছেন আমদানিকারকরা। তারা নতুন করে পেঁয়াজের বাজার আবার বেসামাল করে ফেলেছে। মন্ত্রীর কথার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বলছে, পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক হতে আরও ১০ দিন লাগবে। আর তাদের দাম বাড়ানোর ফলে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে পণ্যটির দাম আবারও বেড়েছে। যার প্রভাব পড়ছে ভোক্তা পর্যায়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here